হোম লোন কি, কিভাবে হোম লোন পাবেন

হোম লোন কি, কিভাবে হোম লোন পাবেন? ব্যাংক থেকে হোম লোন বন্ধুরা, এটা প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন যে আমার একটি নিজের বাড়ি থাকবে। কিন্তু বন্ধুরা, আপনারা জানেন যে সম্পত্তির দাম এত বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতি এত বাড়ছে, সবাই এই স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয় না। বন্ধুরা, আপনিও কি সেই মানুষদের একজন যারা নিজের বাড়ি করার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছেন না। তাই বন্ধুরা, এখন আপনাদের চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ হোম লোন নিয়ে এখন আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। হ্যাঁ বন্ধুরা Bank এখন আপনাকে হোম লোন দেবে যাতে আপনি আপনার স্বপ্নের বাড়ি বানাতে সক্ষম হবেন। বন্ধুরা, যদি আপনিও চান যে আপনার নিজের বাড়ি করবেন, তাহলে এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। বন্ধুরা, আজকের পোস্টে, আমরা জানব কিভাবে আপনি Bank থেকে হোম লোন নিতে পারেন, আপনি কত লোন পাবেন, কতদিনের জন্য লোন পাবেন এবং আরো অনেক কিছু, আমরা আজ এই পোস্টে জানব। তো বন্ধুরা, চলুন শুরু করি আমাদের আজকের এই পোস্টটি।

অবশ্যই পড়বেন –

হোম লোন কি, কিভাবে হোম লোন পাবেন

হোম লোন সোনালী ব্যাংক, হোম লোন ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ, সিটি ব্যাংক হোম লোন, রূপালী ব্যাংক হোম লোন, যমুনা ব্যাংক হোম লোন, ব্র্যাক ব্যাংক হোম লোন, ডিবিএইচ হোম লোন, গ্রামে হোম লোন

হোম লোন –

হোম লোন একটি নিরাপদ ঋণ যেখানে একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আপনাকে আপনার স্বপ্নের বাড়িটি ক্রয়ের অথবা বানানোর জন্য টাকা ধার দিতে পারে। এটি সাধারণত অন্যান্য ঋণের প্রকারের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী সময় সীমার জন্য দেওয়া হয়। কারণ ,ঋণের পরিমাণ সাধারণত বেশি হয় এবং তা ফেরত দেওয়ার জন্য দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়।

অবশ্যই পড়বেন –

হোম লোনের ধরণ –

  • হোম ক্রয় ঋণ: একটি নতুন বাড়ি কেনার সময় এই ঋণ গ্রহণ করুন।
  • জমি ক্রয় ঋণ: বিনিয়োগ বা নির্মাণ উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি কিনতে এই ঋণ নিতে পারেন।
  • গৃহ নির্মাণ ঋণ: যদি আপনি ইতিমধ্যে মালিকানাধীন জমির উপর একটি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে গৃহ নির্মাণ ঋণের জন্য নির্বাচন করুন।
  • গৃহ উন্নয়ন ঋণ: যখন আপনি একটি বাড়ি মেরামতের বা পুণঃনির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঋণ নিবেন তখন এটা বেছে নিন।
  • হোম লোন ট্রান্সফার: বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত নিম্ন সুদের হারের সুযোগ গ্রহণের জন্য একটি নতুন ঋণদাতার এ্যাকাউন্ট বিদ্যমান হোম লোনকে ট্রান্সফার করুন।

অবশ্যই পড়বেন –

হোম লোন এর বৈশিষ্ট্য –

  1. এটা একটি নিরাপদ ঋণ। অর্থাৎ, ঋণদাতা আপনার বাড়ি / সম্পত্তিকে একটি নিরাপত্তা হিসাবে বিবেচনা করে। যদি আপনি ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হন ,তবে ঋণদাতা আপনার বাড়ি/সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা উত্তোলন করার অধিকার পাবেন।
  2. এই ঋণের জন্য ফেরত সময়সীমা ৩ থেকে ২৫ বছর রেঞ্জের মধ্যে হয়। হোম লোনের সমান মাসিক কিস্তি (ইএমআই) মূল পরিমাণ এবং সুদ যোগ করে মোট গণনা করা হয়। হোম লোনে নিবন্ধন চার্জ, প্রক্রিয়াকরণ ফি, প্রাক্কলন, প্রতিশ্রুতি চার্জ এবং বিবিধ চার্জ (ডকুমেন্টেশন/পরামর্শ) এর মত খরচ ও অন্তর্ভূক্ত।

হোম লোন নেওয়ার জন্য যে যোগ্যতা থাকা দরকার –

যোগ্যতা কোন এক ঋণদান প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যের পরিবর্তিত হতে পারে, তবে কিছু সাধারণ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে:

  1. Any salaried, self-employed or business person with Bangladeshi nationality can apply for a home loan.
  2. বাংলাদেশী নাগরিকত্ব নিয়ে কোন বেতনভোগী, স্বনির্ভর বা ব্যবসায়িক ব্যক্তি একটি হোম ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
  3. আপনার বয়স ২১ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
  4. আপনার ঋণের সময়কালীন পরিশোধের জন্য আয়ের একটি নিয়মিত উৎস থাকা উচিত।
  5. আপনার পেশাদার স্থায়িত্ব এবং সঞ্চয় ইতিহাস দ্রুত ঋণ অনুমোদনে সাহায্য করবে।
  6. হোম লোনের জন্য আবেদন করার আগে খেয়াল রাখুন অন্তত তিন মাস আগ পর্যন্ত আপনার কাছে কোন খারাপ ক্রেডিটের ইতিহাস যেন না থাকে।
  7. আপনি যদি একজন বেতনভোগী পেশাদার হন তাহলে আপনার মাসিক আয় ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
  8. স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য অর্জিত মুনাফা প্রধাণত ঋণের মূল্য নির্ধারণ করে।

অবশ্যই পড়বেন –

হোম লোন কি?

বাড়ি নির্মাণ কিংবা পুরানো বাড়ি সংস্কারের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে উপযুক্ত ডকুমেন্ট প্রদানের মাধ্যমে য়ে ঋণ নেওয়া হয় তাই হচ্ছে হোম লোন। নীতিমালা অনুযায়ী হোম লোন বলতে ৪ ধরনের লোনকে বুঝায়।

  1. বাড়ি/আবাসিক নির্মানের জন্য একক ঋণ।
  2. জমি ক্রয় সহ বাড়ি নির্মানের জন্য সম্মিলিত ঋণ।
  3. জমিসহ তৈরী বাড়ি ক্রয়ের জন্য একক ঋণ।
  4. ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ঋণ।

হোম লোন কারা প্রদান করছে?

বাংলাদেশে গৃহ ঋণের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। গৃহঋণ দেওয়াটাই হচ্ছে এই সংস্থার মূল কাজ। ব্যাংক বা বিএইচবিএফসি থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কিনতে চাইলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা নিজের থাকতে হবে। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। সাধারনত সরকারি–বেসরকারি ব্যাংক সহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন- সিটি ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, আইপিডিসি, লংকা বাংলা ফিন্যান্স সহ আরো অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হোম লোন দিয়ে থাকে।

সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক হোম লোন প্রদানের জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রাষ্টায়ত্ব ৪ টি ব্যাংক সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। ব্যাংক গুলো হল- হাউজিং বিল্ডিং ফাইন্যান্স সল্যুশন, সোনালি ব্যাংক, অগ্রনী ব্যাংক এবং রূপালি ব্যাংক। সরকারি চাকুরিজীবিদের গৃহ নির্মানের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ ২০২০ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন একক বাড়ী এবং একাধিক মালিকানার বাড়ী নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদান করে থাকে।

অবশ্যই পড়বেন –

৫ টি উদ্দেশ্যে হোম লোন দেওয়া হয় –

  1. বাড়ি সংস্কারের জন্য (৫ লক্ষ – ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)
  2. সেমি পাকা বাড়ি নির্মানের জন্য (৫ লক্ষ – ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)
  3. পাকা বিল্ডিং বাড়ি নির্মানের জন্য ( ১৫ লক্ষ – ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)
  4. অন্য কোন ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে চাচ্ছেন আর সেটা হোম লোন ডিভিশনে পড়লে ঋণ পাবেন (১৫ লক্ষ – ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)
  5. বাড়ি / ফ্ল্যাট কিনতে চাইলে ঋণ পাবেন (১৫ লক্ষ – ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)

অবশ্যই পড়বেন –

হোম লোনের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ –

  • বাড়ি সংস্কারের জন্য (৫ লক্ষ – ৭৫ লক্ষ টাকা)= ১৫ বছরের জন্য।
  • সেমি পাকা বাড়ি নির্মানের জন্য (৫ লক্ষ – ৭৫ লক্ষ টাকা)= ১৫ বছরের জন্য।
  • পাকা বিল্ডিং বাড়ি নির্মানের জন্য (১৫ লক্ষ – ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা)= ২৫ বছরের জন্য।
  • অন্য কোন ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে চাচ্ছেন আর সেটা হোম লোন ডিভিশনে। পড়লে ঋণ পাবেন (১৫ লক্ষ – ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা) = ২৫ বছরের জন্য।
  • বাড়ি / ফ্ল্যাট কিনতে চাইলে ঋণ পাবেন (১৫ লক্ষ – ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা) = ২৫ বছরের জন্য।

লোনের জন্য ব্যাংকে আবেদনের প্রয়োজনীয় তথ্য –

  1. হোম ক্রেডিটের কিংবা টেকওভার লোনের নিবন্ধনকৃত মালিকানা দলিল থাকতে হবে (যদি লাগে)
  2. হোম ক্রেডিট লোনের প্রাইস কোটেশন।
  3. সংশ্লিষ্ট নথি থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরন করে দাবি করতে হবে।
  4. অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনের সত্যায়িত ফটোকপি।
  5. সাইট পরিদর্শনের জন্য রুট ম্যাপ দিতে হবে।
  6. মূল দলিল, নামজারি খতিয়ান, ডিসিআর, হালসনের খাজনা রশিদের সথ্যায়িত ফটোকপি ইত্যাদি।
  7. জমির মূল মালিকানা দলিল (মূল দলিলের ১ কপি সত্যায়িত ফটোকপি সহ), বায়া দলিল ব্যাংকে পদান করিতে হবে।
  8. সি. এস, এস.এ, আর-এস ও বি. এস খতিয়ানের জাবেদা নকল ব্যাংকে প্রদান করিতে হবে।
  9. ডিসি, আর, খাজনা রশিদ ও খতিয়ান ব্যাংকে প্রদান করতে হবে।

কীভাবে খুব সহজে লোন পাবেন –

কোন বিষয়গুলো দ্রুত হোমলোন পেতে সাহায্য করে সেগুলো আমরা জেনেছি। আসুন, হোমলোন পাওয়া কীভাবে নিশ্চিত করব সে সম্পর্কে একটু জেনে নেই।

শর্তাবলী মেনে চললে, লোন পরিশোধ করার জন্য আপনাকে বেশি ইন্টারেস্ট দিতে হবে না। আমি আবারও বলছি, আপনার যদি আগে কোন লোন নেওয়া থাকে তাহলে হোমলোন নেওয়ার আগে সেগুলো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করুন। যদি লোন পরিশোধ করার জন্য আপনার কোন সহযোগী থাকে অর্থাৎ আপনার পরিবারের কেউ যদি আপনার সাথে লোনটি পরিশোধের দায়িত্ব নিতে চায় তাহলে অবিলম্বে আপনি হোমলোন পেতে পারবেন এবং খুবই স্বল্প ইন্টারেস্ট দিতে হবে। আপনার একাধিক আয়ের উৎসও অবিলম্বে লোন পেতে আপনাকে বিশেষভাবে সাহায্য করতে পারে।

একেক ব্যাংকের একেক সীমাবদ্ধতা আছে। এর মাঝে একেক জন আবার একেক ধরনের সেবা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। কেউ সময় অথবা সুদের হার কমিয়ে বাড়িয়ে মোটামুটি একটি সুন্দর সাধ্যের কাছাকাছি প্যাকেজ ছেড়েছে বাজারে। একে অবশ্য ব্যাংকার ভাষায় প্রোডাক্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

অবশ্যই পড়বেন –

Share This Post

Leave a Reply

WordPress Embed

https://your-site.com/privacy/

Copy and paste this URL into your WordPress site to embed

WordPress Embed

https://www.your-site.org/about-us/

Copy and paste this URL into your WordPress site to embed