হিমালয় পর্বতমালা ও মাউন্ট এভারেস্ট

হিমালয় পর্বতমালা ও মাউন্ট এভারেস্ট, কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হিমালয় পর্বতমালা কৌতুহলশূন্য মানব চিত্তেও বিষ্ময় জাগাতে বাধ্য। শুধু উচ্চতায়ই নয় পরিবেশগত গুরুত্বের দিক দিয়েও হিমালয় পর্বতমালা অনন্য। হিমালয়ের উপর নির্ভর করেই টিকে আছে এর দক্ষিণের সমতল ভূমির জীববৈচিত্র্য। এর উঁচু উঁচু শৃঙ্গগুলোর মধ্যে মাউন্ট এভারেস্ট সর্বোচ্চ।নেপাল ও চীনের সীমান্ত বরাবর অবস্থান করা এই পর্বত শৃঙ্গের নেপালীয় নাম সাগরমাতা আর তিব্বতীয় নাম কমলাংমা (Qomolangma) যার অর্থ Holy Mother.

একটি অভিন্ন নাম দেবার প্রয়াসে ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সার্ভেয়ার জেনারেল এন্ড্রু ওয়াহ তার পূর্বতন সার্ভেয়ার স্যার জর্জ এভারেস্ট এর নামানুসারে এর নাম “মাউন্ট এভারেস্ট” রাখার প্রস্তাব দেন।যদিও উচ্চারণগত জটিলতা দেখা দিতে পারে ভেবে জর্জ এভারেস্ট নিজেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ১৮৬৫ সালে ” রয়্যাল জিউগ্রাফিকাল সোসাইটি ” এন্ড্রু ওয়াহর দেয়া নামটিই সামান্য পরিবর্তন করে গ্রহণ করে।সেই থেকে এটি মাউন্ট এভারেস্ট নামেই বিশ্বে সমধিক পরিচিত।

মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কে মেপেছিলেন,  বাংলাদেশের কোন দিকে হিমালয় পর্বত অবস্থিত,  মাউন্ট এভারেস্টের ছবি,  হিমালয় পর্বতের উচ্চতা কত,  হিমালয় পর্বত সৃষ্টির কারণ,  হিমালয় অর্থ,  হিমালয় পর্বতের শ্রেণীবিভাগ, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত 2021,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা জরিপ করেন কে,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত ফিট,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কে মেপেছিলেন,  মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চতা,  মাউন্ট এভারেস্টের বর্তমান উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টের নতুন উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টে উচ্চতা কত,
চিত্র-১ সুপার কন্টিনেন্ট গন্ডোয়ানা

হিমালয় পর্বতমালা ও মাউন্ট এভারেস্ট কিন্তু কিভাবে গঠিত হল এই অত্যাশ্চর্য পর্বতশ্রেণী?

আজ থেকে প্রায় ৫ কোটি বছর আগে শুরু হয় হিমালয় পর্বতমালার গঠন প্রক্রিয়া।আমাদের বর্তমান ভারতীয় উপমহাদেশটি ১৪ কোটি বছর আগে “গন্ডোয়ানা” নামক একটি সুপারকন্টিনেন্ট এর অংশ ছিল।গন্ডোয়ানা এর মধ্যে আরও ছিল আজকের অস্ট্রেলিয়া, এন্টার্কটিকা, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা। মোটামুটি ১০ কোটি বছর আগে অর্থাৎ ক্রেটাশীয় যুগের শেষের দিকে ইন্ডিয়ান প্লেটটি মাদাগাস্কারের সাথে যুক্ত থেকে গন্ডোয়ানা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।এরপর এটি মাদাগাস্কার থেকেও বিচ্ছিন হয়ে বছরে ২০ সেন্টিমিটার এই গতিতে উত্তর দিকে যাত্রা আরম্ভ করে এবং মোটামুটি ৫ কোটি বছর আগে এটি ইউরেশিয়ান প্লেটের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

ওই ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষের ফলে মধ্যবর্তী সেডিমেন্ট উপরের দিকে উঠতে থাকে।আর এভাবেই ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে থাকে হিমালয় পর্বতমালা। ইন্ডিয়ান প্লেটটি এখনো ইউরেশিয়ান প্লেটকে উত্তর- পশ্চিম দিকে ধাক্কা দিচ্ছে।তাই ইউরেশিয়ান প্লেটটি উত্তর দিকে সরে যাচ্ছে আর ইন্ডিয়ান প্লেটটি বছরে প্রায় ২ সেন্টিমিটার হারে সংকুচিত হচ্ছে।আর এই দুই প্লেটের ঠোকাঠুকিতে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতাও বছরে ৪ সেন্টিমিটার এই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।তবে নেপাল ও এর আশেপাশের অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এভারেস্টের উচ্চতা হ্রাস পায় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন ২০১৫ সালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে এর উচ্চতা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হয়।

মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কে মেপেছিলেন,  বাংলাদেশের কোন দিকে হিমালয় পর্বত অবস্থিত,  মাউন্ট এভারেস্টের ছবি,  হিমালয় পর্বতের উচ্চতা কত,  হিমালয় পর্বত সৃষ্টির কারণ,  হিমালয় অর্থ,  হিমালয় পর্বতের শ্রেণীবিভাগ, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত 2021,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা জরিপ করেন কে,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত ফিট,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কে মেপেছিলেন,  মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চতা,  মাউন্ট এভারেস্টের বর্তমান উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টের নতুন উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টে উচ্চতা কত,
চিত্র-২ ইন্ডিয়ান প্লেটের উত্তরমুখী যাত্রা

হিমালয় পর্বতমালা ও মাউন্ট এভারেস্ট কে বড়?

২০২০ সালের পূর্ব পর্যন্ত এভারেস্ট শৃঙ্গের উচ্চতা ধরা হত ৮৮৪৮ মিটার।এটা ১৯৫৪ সাল থেকে চলে আসছিল।কিন্তু ২০১৯ সালে নেপাল ও চীন আলাদাভাবে এভারেস্ট শৃঙ্গের উচ্চতা মাপে এবং তারা উচ্চতার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছায়। তাদের জরিপ অনুযায়ী এর বর্তমান উচ্চতা হল ৮৮৪৮.৮৬ মিটার।এই উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গণনা করা হয়।

এই হিসেবে এভারেস্টই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। কিন্তু যদি পর্বতের বেস থেকে সর্বোচ্চ চূড়া অব্দি দৈর্ঘ্য হিসেব করা হয় তবে আমেরিকার হাওয়াই অঞ্চলের ” মাউন্ট কেইয়া” পৃথিবী সবচেয়ে লম্বা পর্বত। কারণ এর ৪.২ কিলোমিটার অংশ পানির নিচেই রয়ে গেছে।এর পানির নিচে ও উপরের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটারের চেয়ে কিছু বেশি।

আর যদি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে উঁচু স্থানের কথা বলা হয় তবে মাউন্ট এভারেস্টও বাদ পরে যাবে। কারণ বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি।তাই এই অঞ্চলের দেশ ইকুয়েডরের Chimborazo পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে উঁচু স্থান।তবে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৬২৬৩ মিটার।

হিমালয়ের এভারেস্ট পর্বতারোহীদের জন্য কতটা প্রাণঘাতী?

হিমালয়ের এভারেস্টের কাছে হিমবাহ অতি দ্রুত গলতে শুরু করায় বেরিয়ে আসছে বহু অভিযানকারীর মৃতদেহ। পবর্তারোহীদের জন্যে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান এই হিমালয়- কিন্তু এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ক্রমশই। সুতরাং কতটা মারাত্মক এই এভারেস্ট এবং হিমালয়ের অন্য শৃঙ্গগুলোর সাথে তুলনায় কী পাওয়া যায়?

মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কে মেপেছিলেন,  বাংলাদেশের কোন দিকে হিমালয় পর্বত অবস্থিত,  মাউন্ট এভারেস্টের ছবি,  হিমালয় পর্বতের উচ্চতা কত,  হিমালয় পর্বত সৃষ্টির কারণ,  হিমালয় অর্থ,  হিমালয় পর্বতের শ্রেণীবিভাগ, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত 2021,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা জরিপ করেন কে,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত ফিট,  মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কে মেপেছিলেন,  মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চতা,  মাউন্ট এভারেস্টের বর্তমান উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টের নতুন উচ্চতা কত,  মাউন্ট এভারেস্টে উচ্চতা কত,
চিত্র-৩ এভারেস্ট, মাউন্ট কেইয়া ও Chimborazo এর তুলনা

এভারেস্টে মৃত্যু

রেকর্ড বলছে এই পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন মাত্র ২৮০ জন। যদিও এই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, তবে মৃত্যুর হার- অর্থাৎ যারা বেস ক্যাম্পের ওপরে আরোহণের সময়ে মারা গেছেন তাদের অনুপাত ১%। ২০১০ সাল পর্যন্ত, এভারেস্টে মৃত্যুর সংখ্যা ৭২জন এবং ৭৯৫৪ জন বেস ক্যাম্পের ওপরে আরোহণ করেছেন। বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে তুষার ধস বা পতনের কারণে, আর এসব কারণ লাশ উদ্ধারেও বাধা সৃষ্টি করে বলে জানানো হয়।

এছাড়া পর্বত আরোহণ সংক্রান্ত শারীরিক সমস্যার কারণেও পর্বতারোহীরা মারা যেতে পারেন। যাকে অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস বলা হয়, যার লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, বমি এবং মাথা ব্যথা। অ্যালান আরনেট, একজন পেশাদার পর্বতারোহী। তিনি এভারেস্ট এবং কেটু (K2) বা মাউন্ট গুডউইন-অস্টিন এ আরোহণের তুলনা করেছেন।

ঝুঁকিগুলো স্পষ্ট হলেও তিনি মনে করেন যে এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহণ হিমালয়ের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। এভারেস্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ক্ষেত্রে মূলত ভালোভাবে ব্যবহৃত রুট মেনে চললেই হয়।”

“সেই পথে প্রচুর অবকাঠামো রয়েছে, আছে চা ঘর, আরও রয়েছে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারের সুবিধা। পাকিস্তানে এমন কিছু পর্বত রয়েছে যেখানে আপনি সামরিক হেলিকপ্টারের ওপরও নির্ভর করতে পারবেন,” বলছিলেন তিনি।

হিমালয় জুড়ে কী ঘটে

বেশিরভাগ হিমালয় অভিযান অবশ্য পাকিস্তান থেকে করা হয় না। শৃঙ্গগুলোতে অভিযান চালানো হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেপাল অংশ থেকে। এবং সে অংশেই এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনেক বিস্তারিত সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। আর এ কাজে বিশেষভাবে ধন্যবাদ পাবার অধিকার রাখেন সাংবাদিক এলিজাবেথ হাওলি।

তার হিমালয় ডাটাবেজে এভারেস্টসহ এই অঞ্চলের ৪৫০টির বেশি শৃঙ্গে আরোহণের সফল বা ব্যর্থ অভিযানের রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এই হিমালয় ডাটাবেজে কেবলমাত্র সফল অভিযানের হিসেবই রাখেনি। একইসাথে যারা বেস ক্যাম্প অতিক্রম করতে পারেননি তাদের কাছ থেকেও পর্বতের ভয়াবহতার নানা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যে ব্যাপারগুলো পাকিস্তান অংশে করা হয়নি।

১৯৫০ সাল থেকে বিগত এক দশকে মৃত্যুর হার ৩% থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ০.৯% এ। এটি এই অঞ্চলে বেস-ক্যাম্পের ওপরে যারা উঠেছেন তাদের বিবেচনায় নিয়ে।

আর নেপালের পেশাদার পর্বতারোহী যারা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন- শেরপা নামে পরিচিত, তাদের মারা যাবার হারও ১.৩% থেকে কমে হয়েছে ০.৮%। ২০১০ সাল পর্যন্ত হিমালয় ডাটাবেজের রেকর্ডে দেখা যায়, বেস ক্যাম্প ছাড়িয়ে উঠেছেন এমন আরোহণকারীদের মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ১৮৩ জনের।

এই সময়ের মধ্যে ২১,০০০ জন এই পর্বতমালায় অভিযান চালিয়েছেন। ২০১০ সালের পর, ইয়ালুং কাং শৃঙ্গে ওঠার সময় তিনজনের মৃত্যু ঘটে। এই চূড়ান্ত পর্বতারোহণের সামগ্রিক সংখ্যাটি ছোট। তবে যেটি দেখা যায় যেসব শৃঙ্গে আরোহণের সংখ্যা কম সেগুলো হয়তো সবচেয়ে প্রাণঘাতী।

মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?

মাউন্ড এভারেস্ট। পৃথিবীর সমস্ত অভিযাত্রীদের কাছে  স্বপ্নের শৃঙ্গ। শুধু বিশ্বের মধ্যে উচ্চতম বলে নয়, যাতায়াতের সুবিধা আর এটা পৃথিবীর অন্য উঁচু শৃঙ্গগুলি থেকে তুলনামূলক সহজ। তবে সহজ হলেও উচ্চতম শৃঙ্গে ওঠার একটা গর্ব তো রয়েইছে। সেটা কিছুতেই কেড়ে নেওয়া যাবে না। তাই তো পৃথিবীর প্রথম দুই অভিযাত্রী তেনজিং নোরগে ও এডমন্ড হিলারি অমর হয়ে রয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। বইয়ে পড়েছি, তাছাড়া যাঁরা অভিযাত্রী বা অভিযাত্রী নন, কিন্তু ভূগোলের খোঁজ রাখেন, তাঁরা সকলেই জানেন এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার। কিন্তু যা জানেন তা কতটা সঠিক।

সঠিক ছিল যখন ওই উচ্চতা মেপে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। এখন কিন্তু আপনি ওই উচ্চতা লেখেন, তাহলে কিন্তু আপনি ভুল লিখবেন। কেন? কারণ এখন আর এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার নয়। কিছুটা বেশি। কিন্তু কত, তা হলফ করে বলা যাবে না। কারণ উচ্চতা স্থির তো নয়। না কোনও পাগলের প্রলাপও নয়, কোনও লেখার ভুলও নয়। এভারেস্টের উচ্চতা আসলে স্থির নয়। বাড়ছে। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে তার উচ্চতা।

প্রতি বছর ভূতাত্ত্বিকগত উত্থানের কারণে গড়ে আনুমানিক ৪ মিলিমিটার উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এভারেস্টের ! যা এখনও বাড়ছে। বেড়েই চলেছে। চিন ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এভারেস্ট পর্বতের শীর্ষবিন্দু দিয়ে গেছে। এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন এভারেস্ট শৃঙ্গের দৈর্ঘ প্রস্থ হলো ৩০ ফুট ও ৬ ফুট। ১৯৭৫ সালের ১৬ মে প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করার কৃতিত্ব লাভ করেন জাপানের জুনকো তাবেই। প্রথম প্রতিবন্ধী হিসেবে ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টম হুইটেকার এভারেস্টের চূড়ায় উঠেন। একটি কৃত্রিম পা নিয়েও তিনি এভারেস্ট জয় করে বিশ্ববাসীকে চমকে দেন।

নেপালের আপা শেরপা সবচেয়ে বেশিবার এভারেস্ট জয় করেছেন। ১৯৯০ সালের ১০ মে থেকে ২০১১ সালের ১১ মে পর্যন্ত তিনি মোট ২১ বার তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পা পা রেখেছেন। নন শেরপা হিসেবে এই রেকর্ড আমেরিকান পর্বতারোহী ও অভিযানের গাইড ডেভ হানের দখলে। ১৯৯৪ সালের ১৯ মে থেকে ২০১২ সালের ২৬ মে পর্যন্ত মোট ১৪ বার এভারেস্ট জয় করেছেন তিনি।

মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কে মেপেছিলেন

মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) বিশ্বের সর্ব্বোচ পর্বতশৃঙ্গ। এই শৃঙ্গটি হিমালয়ের মহালঙ্গুর হিমাল পর্বতমালায় অবস্থিত। চীন ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষবিন্দু দিয়ে গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে বাঙ্গালি গণিতবিদ ও পর্যবেক্ষক রাধানাথ শিকদার ত্রিকোণমিতিক গণনা করে সর্বপ্রথম নির্ণয় করেন যে, এই শৃঙ্গ বিশ্বের সর্ব্বোচ শৃঙ্গ। জনসমক্ষে এই শৃঙ্গের উচ্চতা জানানো হয় ৮৮৩৯.৮ মিটার। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে একটি ভারতীয় জরিপে এই শৃঙ্গেরর উচ্চতা নির্ণয় করা হয় ৮৮৪৮ মিটার, যা ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে একটি চীনা জরিপ দ্বারা নিশ্চিত করা হয়।

FAQ
Q. বাংলাদেশের কোন দিকে হিমালয় পর্বত অবস্থিত?

বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বত অবস্থিত। চীন ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।

Q. মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা জরিপ করেন কে?

রাধানাথ শিকদার এক অসাধারণ গণিতবিদ।

Q. হিমালয় পর্বতের উচ্চতা কত?

উচ্চতা: ৮,৮৪৮ মিটার (২৯,০২৯ ফুট)
শিখর: মাউন্ট এভারেস্ট, নেপাল ও চীন‎
দৈর্ঘ্য: ২,৪০০ কিলোমিটার (১,৫০০ মাইল)

Q. প্রথম এভারেস্ট জয়ী

এভারেস্টের চূড়ায় প্রথম পেঁৗছেন স্যার এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে, ১৯৫৩ সালের ২৯ মে।

Q. প্রথম এভারেস্ট জয়ী নারী

১৯৭৫ সালের ১৬ মে প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় পেঁৗছার কৃতিত্ব দেখান জাপানের জুনকো তাবেই,

Q. অক্সিজেন ছাড়া প্রথম এভারেস্ট জয় করা নারী

লিডিয়া ব্র্যাডি। তিনি এভারেস্ট জয় করেন ১৯৮৮ সালের ১৪ অক্টোবর।

Q. অক্সিজেন ছাড়া প্রথম এভারেস্ট জয়ী পুরুষ

১৯৭৮ সালের ৮ মে এভারেস্ট জয় করেন অস্ট্রিয়ার পিটার হেবেলার (ডানে ব) এবং ইতালির রেইনহোল্ড মেসনার(বায়ে)। এ অভিযানটি অনন্য, কারণ তাঁরাই প্রথম অক্সিজেন ছাড়া চূড়ায় আরোহণ করেন।

Q. প্রথম একক এভারেস্ট জয়ী জয়

ইতালির রেইনহোল্ড মেসনার প্রথম অভিযাত্রী যিনি একা এভারেস্ট জয় করেন, ১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট।

Q. শীতকালে এভারেস্ট জয়

শীতকালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন পোল্যান্ডের এল সিচি (ডানে)এবং কে ওয়েলিকি, (বায়ে) ১৯৮০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।

Q. প্রথম এভারেস্ট জয়ী দম্পতি

১৯৯০ সালের ৭ অক্টোবর এভারেস্ট জয় করেন এক দম্পতি। স্লোভেনিয়ার এই স্বামী-স্ত্রীর নাম আন্দ্রেজ এবং মারিয়া স্ট্রেমফেলজ।

Q. প্রথম অন্ধ এভারেস্ট জয়ী

২০০১ সালের ২৫ মে প্রথম অন্ধ ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের এরিক ভিয়েনমায়ার।

Q. দুই ভাইয়ের এভারেস্ট জয়

১৯৯২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রথম সহোদর হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন আলবার্তো ও ফেলিক্স ইনুরাতেগুই।

Q. বাবা-ছেলের এভারেস্ট জয়

১৯৯০ সালে প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন জ্য নোয়েল রোচে এবং তাঁর ছেলে রোচে বারত্রা ওরফে জেবুলন। ১৭ বছরের বারত্রা ছিলেন তখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সী এভারেস্ট জয়ী।

Q. খোঁড়া হয়েও এভারেস্ট চূড়ায়

১৯৯৮ সালে বিশ্ব্ববাসীকে চমকে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টমাস হুইটাকের। একটা কৃত্রিম পা নিয়েও দুর্গম এভারেস্টকে পরাভূত করেন তিনি।

Q. প্রথম দুবার এভারেস্টের চূড়ায়

প্রথম দুবার এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার কৃতিত্ব নেপালের নওয়াং গোম্বুর।

Q. সবচেয়ে দ্রুত এভারেস্ট জয়

সবচেয়ে দ্রুত এভারেস্টে ওঠার রেকর্ড অস্ট্রিয়ান ক্রিস্টিয়ান স্টেনগালের। বেইস ক্যাম্প থেকে চূড়ায় পৌঁছাতে তিনি সময় নেন মাত্র ১৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। ঘটনাটি ঘটে ২০০৭ সালে।

Q. সবচেয়ে দ্রুত নেমে আসা

সবচেয়ে দ্রুত চূড়া থেকে নেমে আসার রেকর্ডটি ফ্রান্সের জ্যঁ-মার্ক বোয়াভিনের। তিনি প্যারাগ্লাইডিং করে মাত্র ১১ মিনিটে নেমে আসেন বেস ক্যাম্পে।

Q. প্রথম বাঙালির এভারেস্ট জয়

বাঙালি হিসাবে প্রথম এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন দেবাশীষ বিশ্বাস ও বসন্ত সিংহ রায়। দেবাশীষের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় আর বসন্ত সিংহের বাড়ি নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।

Q. সবচেয়ে বেশিবার চূড়ায়

এভারেস্টের চূড়ায় কোনো মতে একবার পেঁৗছাটাই বেশির ভাগ মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। সেখানে নেপালের আপা শেরপার কাণ্ড শুনলে চোখ কপালে উঠবে। এ পর্যন্ত ২০ বার এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন তিনি।

Q. সবচেয়ে কম বয়সে এভারেস্ট জয়

এ বছরই ২২ মে ঘটনাটা ঘটান আমেরিকান এক কিশোর। জর্ডান রোমেরা নামের এই কিশোরের বয়স মাত্র ১৩ বছর।

Q. মোট অভিযাত্রীর মৃত্যু

এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখতে গিয়ে ২০০৯ সালের শেষভাগ পর্যন্ত ২১৬ জন অভিযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।

Q. সবচেয়ে বড় অভিযাত্রীদের দল

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অভিযাত্রী দল এভারেস্ট জয়ে গেছে চীন থেকে। ১৯৭৫ সালে ৪১০ জনের একটি অভিযাত্রী দল ওই অভিযানে অংশ নেয়।

সূত্রঃ ইন্টারনেটের বিভিন্ন পেজ থেকে।

লিখেছেনঃ জাহিদুল ইসলাম রিপন।

Share This Post

Leave a Reply

Biography

WordPress Embed

https://your-site.com/privacy/

Copy and paste this URL into your WordPress site to embed

WordPress Embed

https://www.your-site.org/about-us/

Copy and paste this URL into your WordPress site to embed